Friday, January 29, 2016

রিভিউ - উন্মাদ নভেম্বর ২০১৫ (৩১১)


এই সংখ্যার বিশেষত্ব এই যে , এটি উন্মাদের প্রথম হোয়াইট প্রিন্টে ছাপা  লেমিনেটিংযুক্ত কাভার-যুক্ত সংখ্যা  পাতা কমিয়ে আপোষ করতে হয়েছে যদিও , ৫৬ পাতা থেকে নেমে উন্মাদ এখন ৪৮ পাতার 
প্রচ্ছদ – সাক্ষর দেখে মনে হচ্ছে মেহেদী হকের আঁকা   একটি বিশাল থাম্বস আপ হাতুড়ির মত উন্মাদকে মাটিতে পেরেক-পোতা করছে , উপরে লেখা – ‘লাইক চাই না , ফেসবুক সামলা !’ পোস্টে লাইক পেতে আমাদের সবারই ভাল লাগে  কিন্তু কেউ কেউ লাইক পাবার জন্যে যা করেন , খুবই নিম্ন রুচির  দৃষ্টিকটু 



দ্বিতীয় পাতায় হাঙরের হাত থেকে বাঁচতে উন্মাদের পাখা গজানো ভাল লেগেছে  ৩য় পাতায় টোকাই স্রষ্ঠা নবীর ( মোঃ রফিকুন নবী ). ক্যারিকেচার করেছেন নাসরিন সুলতানা মিতু । তাঁর ন্মদিন কি নভেম্বরে ? গুগল করে বের করতে পারলাম না 

চিঠি বিভাগে উন্মাদে কাজ করা মাহবুবুল আলম মাসুদের স্মৃতিচারণ ভাল লেগেছে  উন্মাদ বৈরাগীদের জন্যে  সংসারীদের জন্যে না  আহসান হাবীবের ‘ভ্রমণ গমনং গচ্ছামি ’ যোগাড় করে পড়ার ইচ্ছা রইল  মাস্ট কার্টুন পছন্দ হয়েছে 

আহসান হাবীবের ‘চোখের কালি ’ অসাধারণ  জি বাংলার চোখের বালি সিরিয়ালকে প্যারোডি করে লেখা  সুন্দর ক্লাসিকগুলোকে কিভাবে মার্ডার করা হচ্ছে , জি বাংলার সিরিয়াল তার অতি-সাম্প্রতিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত  মোদ্দা কথা আহসান হাবীব আশালতাকে দিয়ে  বলে দিয়েছেন 

রবীন্দ্রনাথ রাইফেল লোড করছেন শেষে  পড়া ক্লাসিকগুলোর মার্ডার দেখে আমারও সময়ে সময়ে আমারই ইচ্ছা করে পরিচালকদের ক্রসফায়ারে ফেলতে 


রাজীবের বাজরাঙ্গি ব্রাদার ,সালমানের বজরঙ্গি ভাইজানের প্যারোডি  মোটামুটি লেগেছে  সালমানকে দেখে হরিণের ভয় পাওয়া একই সাথে কমেডি  ট্রাজেডি  যারা জানেন না তাদের বলছি , হাম সাথ সাথ হ্যায়’ চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় ১৯৯৮ সালে ২৬-২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে  রাজস্থানের ভাওয়াদে দুটি চিনকারা  গোদা ফার্মে একটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেন সালমান। আইনের মারপ্যাচে সাময়িক হাজতে থাকতে হলেও সাজা থেকে এখনও বেঁচে আছেন তিনি 
নাসিফ আহমেদের ‘বাপের বাড়ি চললাম’ এর শেষ উন্মাদ স্টাইলটাই জবর লেগেছে । বাকিগুলো চলে কোনরকম ।
ঘোস্ট মিউজিয়াম (আয়ান), অভিনয় চক্র , কিন্তু কেন পড়ে আনন্দ পেয়েছি । এবারের পরিদর্শন মহাশূণ্যে । এক্সসিলেন্ট পিস ।


দুটি প্রবন্ধ আছে এ সংখ্যায় । হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফের মাঙ্গা এবং গ্রাফিক নভেল (বেনামা ) । দুটি রচনাই তথ্য সমৃদ্ধ । তবে মাঙ্গাতে একটি তথ্যগত ভুল আছে । পাঠকের মৃত্যু প্রমথ চৌধুরী দ্রষ্টব্য লিখা । এটি বনফুল দ্রষ্টব্য হবে । নিচের ছবিটি পৃথিবীর প্রাচীনতম কমিকস স্ট্রিপ (সম্ভবত ) । ৫০০০ বছর আগে ইরানে পাওয়া গেছে । 

সে এবং সে (প্রবাল ),উন্মাদ দৃষ্টিতে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড,বিদেশী কার্টুন,এলিয়েনের আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারার কারণ তেমন মজা  লাগেনি ।
বিজ্ঞাপন যারা দেয় তারাই আছে । নতুন অতিথি হিসেবে কথাপ্রকাশ এর বিজ্ঞাপন দেখলাম । এজন্যে সাক্ষাৎকার অংশ কোরবানি দিতে হয়েছে । নিয়মিত আয়োজন জোকস এ সংখ্যায় অনুপস্থিত ।








Friday, January 22, 2016

রিভিউ - উন্মাদ জানুয়ারি ২০১৬ (৩১৩)


প্রচ্ছদ – মোটামুটি । ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাস্কর্যবিদ অগাস্তে রডিন এর ‘দি থিংকার’ এর অবলম্বনে এবারের  প্রচ্ছদ । চিন্তাশীল ভাবুক ব্যক্তি মূল ভাস্কর্যে ভাবছিল, আর এখানে উন্মাদ ফিচকামি করছে ।



দুই ধারের কাভার পেজ এ উন্মাদ প্রতিদিন পাওয়ার জন্যে বিজ্ঞাপন ,অবশ্যই টাকার বিনিময়ে । বাংলালিংক আর গ্রামীণফোনে । প্রতিদিন ২.৩৭ টাকা খরচ করতে হবে পেতে হলে । জানি না এমন বোকা আছে কিনা যারা নেবে । কিছু লোক নিলেও অবশ্য পত্রিকার জন্য ভাল আয়ের উৎস হতে পারে ।

১ আর ২ পাতা আকর্ষণ করল না । ৩য় পাতায় উন্মাদ ২০১৫ থেকে ২০১৬ তে কুমিরের মুখে ঝাঁপ দিচ্ছে । হ্যাপি নিউ ইয়ার কার্টুনটা দারুণ ।

চিঠিপত্র ও প্রেমপত্র – 
নভেম্বর ২০১৫ সংখ্যা থেকে উন্মাদ হোয়াইট প্রিন্ট । পৃষ্ঠা সংখ্যা কমাতে হয়েছে অবশ্য । ৫৬ পাতা থেকে কমে পৃষ্ঠা সংখ্যা এখন ৪৮ । পত্রলেখক শাকিব বনানী থেকে এটাকে স্বাগত জানিয়েছেন । যদিও আমি সন্দিহান – এই পড়তি বাজারে হোয়াইট প্রিন্টে যাওয়াটা ব্যবসায়িক দিক দিয়ে কতটা ভাল হবে । দাম যতদিন ঠিক থাকবে  পাঠক অবশ্য গা করবে না , ঝামেলা হবে দামটা যখন বাড়বে । জুয়েল অপটিকস আর একটি রিংটোন কম্পানী ছাড়া বিজ্ঞাপন তো দেখিনা অন্য কারো । কভারগুলো লেমিনেশন করানোতে পত্রিকাটি যে আরো সংরক্ষণযোগ্য হয়েছে – সে বিষয়ে আমি একমত ।  আজিমপুর থেকে শায়লা রঙিন করতে বলেছেন উন্মাদকে । বিক্রি দেদার থাকলে রঙ্গিন এতদিনে হয়ে যেত । রঙিন করায় দাম বাড়লে পত্রলেখিকাও কিনবেন কিনা আমার সন্দেহ আছে । মাস্ট কার্টুন টা বেশ ।

উন্মাদ টিভি চ্যানেল  কার্টুনে ডোরেমন আর রান্নার উপস্থাপিকার এনাকোণ্ডার সুপ ভাল লেগেছে । উন্মাদ MAD MAX মাথার উপর দিয়ে গেল । একদম ভাল লাগেনি । হোটেল ট্রান্সিলভানিয়া এর প্যারোডি ভাল লাগেনি ।



দৃশ্য-চিত্রের ব্যখ্যা কোন হাসির উদ্রেক করতে পারল না । নাফিস আহমেদের সঠিক লোককে সঠিক পদে নিয়োগ দেয়ার উপায় দুর্দান্ত হয়েছে ।

মোরশেদ মিশুর উন্মাদ যদি, হ্যাপি নিউ ইয়ার জোকস , বিদেশি হ্যাপি নিউ ইয়ার কার্টুন,কোলাজ কার্টুন ,একটি ফ্রিজের ইন্টারভিউ  ভাল লাগেনি ।

সোনালি ইসলামের হ্যাপি নিউ ইয়ার ভাল লেগেছে ।

তন্ময়ের ভূত চক্র , ফয়সালের নানান রং  ভাল লেগেছে । তানজিম আর হাজ্জাজের যৌথ প্রযোজনা একদিন পথের আইডিয়া আঁকা দারুণ । এলিয়েনকে দেখে সৎ সাজা , তারপর আবার যেই-কে-সেই অসৎ হয়ে যাওয়া ... হা হা হা ! পরিদর্শন বরাবরের মত মান বজায় রাখতে পেরেছে । ১০ এ ৮ দেওয়া যায় । নিউটনের বাল্য বন্ধু দাবি করে আঙ্কেল ডাকতে মানা করা ,সাদা কালো বলে জেব্রাকে প্রাচীনতম প্রাণী বলা , শেষমেশ উন্মাদকে ধরে মঙ্গলে পাঠিয়ে দেয়া । দারুণ ।


কিনে ৩০ টাকা পানিতে যায়নি বলতে পারি  ।